এই তো সেদিন— ২০২৩-এর সেই রিমোট ওয়ার্কিংয়ের দিনটা মনে আছে? অফিসের কাজ শেষ করতে গিয়ে ঠিক সন্ধ্যে ৭টায় বাড়ি ফিরে দেখি রান্না তো দূরের কথা, নিজের ব্রেকফাস্টের প্লেটটাও ধুয়ে রাখিনি। মাথাটা এমন ঘুরছিল যেন কোনও ইন্টারনেট সার্ভারের ক্যাশ মেমোরি ক্লিয়ার করা লাগবে। তখনই মনে হয়েছিল, সময়টা যেন পালিয়ে যাচ্ছে আমাদের হাত থেকে।

ঠিক সেই মুহূর্তেই মনে পড়লো একটা günlük yaşamda verimlilik artırma guide ipuçları কোথায় যেন পড়েছিলাম। সেই মুহূর্তেই ঠিক করলাম, এমন কিছু টিপস খুঁজে বের করবো যেগুলো সত্যিই কাজে লাগে— না একটা জেনারেল লিস্ট, না একগাদা থিওরি। আর সেটাই নিয়ে বসেছি আজকে তোমাদের সামনে।

আমি নিজেও একটা সময় ছিলাম যখন একটা সিম্পল টু-ডু লিস্ট তৈরি করতে পারতাম না। একবার তো আমার কলিগ রেহানা (যিনি এখন নিজেই একটা টাইম ম্যানেজমেন্ট কোর্স চালান) আমাকে বলেছিল, “তুমি নিজের টাইমটা ব্লক করে দাও না কেন? যে কাজটা করছো সেটাই পুরোপুরি করো।” আর ঠিক সেই থেকেই শুরু। তাই আজকে যে টিপসগুলো শেয়ার করবো সেগুলো আমার নিজের ট্রায়াল-এন্ড-এরর থেকে বেরিয়ে আসা। কাজেই মন দিয়ে পড়ো— হতে পারে এগুলোর একটা তোমার দিনটাকেই পাল্টে দেবে।

কালঘুমকে বিদায় জানিয়ে রুটিন মেনে চলুন: সকাল থেকে শুরু

গত মাসের একটা ঘটনা মনে আছে? দশটা ব্যাগ নিয়ে অফিস থেকে বের হচ্ছি, মনে হলো একটা মোবাইল চার্জার নেই। পরে দেখলাম ব্যাগের একেবারে নিচেই পড়ে আছে, আরেকটা ব্যাগের সঙ্গে পুরোপুরি চাপা পড়ে গিয়েছিল। ev dekorasyonu ipuçları 2026 বলে দিন না কেন আমরা সব কিছু আগের দিনই গুছিয়ে রাখতে পারি না! সকালে দৌড়ঝাঁপ করতে করতে যখন দেখি চাবিটা পাওয়া যাচ্ছে না, তখনই বুঝি আগের রাতের ছোট্ট একটা প্রচেষ্টাই আমাদের কতটা সময় বাঁচিয়ে দিতে পারে।

সকালের প্রথম এক ঘণ্টা যে কারণে জয় করতে হবে

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম এক ঘণ্টায় যদি নিজেকে একটু নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি, তাহলে পুরো দিনটাই অনেকটাই গুছিয়ে যায়। আমার বন্ধু রহিমের কথাই ধরুন না — বছর তিনেক আগে সে একটা অভ্যাস শুরু করেছিল। রাত দুটোর আগে ঘুমোতে যাবে, আর সকাল ছ’টায় উঠবে। শুরুতে কত কষ্ট হয়েছিল বলুন! বিশেষ করে শীতকালে যখন শীতের ঘুমটাই ভালো লাগে। কিন্তু তিন মাস পর দেখলাম রহিমের জীবনে একটা ম্যাজিক ঘটেছে। তার আর অফিসে দেরি করতে হয় না, ব্রেকফাস্টটাও ঠিকঠাক সময়ে খেতে পারে, এমনকি রাতে নিজের জন্য সময় বের করতে পারে। আমি নিজেও চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু তিন দিন পরেই আবার পুরোনো রুটিনে ফিরে গেছি। এক্ষেত্রে আমার ভুলটা ছিল যে আমি নিজেকে একেবারে চরম চেষ্টা করতে বলেছিলাম। রুটিনটা শুরু করতে হবে ধীরে ধীরে।

  • ✅ প্রথম দিন থেকেই ঘড়ির কাঁটা ধরে চলাটা শুরু করুন না। ঘুম থেকে উঠুন পাঁচ মিনিট আগে করে।
  • ⚡ বিছানা ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটা গ্লাস পানি খেয়ে নিন। এটা আসলে পুরো শরীরকে জাগিয়ে তোলে।
  • 💡 একটা নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন। রাত বারোটার পর ঘুমালে মস্তিষ্ক আর ঠিকমতো বিশ্রাম পায় না।
  • 🔑 জোর করে নিজেকে ঘুম থেকে তুলবেন না। আগের রাতে যথেষ্ট ঘুম দিয়ে রাখার চেষ্টা করুন।
  • 📌 ঘুমের ঘরটা যেন সম্পূর্ণ অন্ধকার আর ঠান্ডা থাকে। একটা আরামদায়ক পরিবেশই হলো ঘুমের সঙ্গী।

আমার এক কলিগ অর্পিতা বলতেন, “ঘুমের আগে মোবাইল দেখাটা একেবারে ছেড়েই দিয়েছি। তারপরই দেখছি রাত তিনটেয় চোখ চলে যায় ঘুমে।” তার মানে আমরা নিজেদের অভ্যাসের মধ্যেই অনেক সময়ের জয় লুকিয়ে রাখি। একটা ছোট্ট পরিবর্তনই যে পুরো দিনটাকে পাল্টে দিতে পারে, সেটা অনেক সময় আমরা নিজেরা বিশ্বাস করতে চাই না।

কিন্তু কথা হলো, সবাই যে একই নিয়ম মেনে চলতে পারে তা তো নয়। আমার মা তো বলেন, “আমার রাত বারোটার আগে ঘুম আসেই না, আবার সকালে উঠতে গেলে মনে হয় যেন কয়েক মিনিটও ঘুম হলো না।” তার জন্য আলাদা একটা টেকনিক আছে — সন্ধ্যা ছটা থেকে নটা পর্যন্ত কোনো কাজই নেই। ঘরে আলো কমিয়ে গান শুনতে শুনতে সময় কাটান। দেখবেন রাতটা অনেকটাই সহজ হয়ে আসবে। মানুষের শরীরটা তো আর একই নলেজ নাই, তাই নিজের জন্য একটা উপযোগী রুটিন বানানোই হলো মূল কথা।

“প্রথম এক ঘণ্টার কাজগুলো ঠিকঠাক করলে পুরো দিনটা নিজের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। আমি নিজে অবশ্য প্রথম দিনেই ব্যর্থ হয়েছিলাম — সকালে উঠেছিলাম ছ’টা পনেরোয়। তবে থেকেই শুরু, ক্রমশ সময়টা কমিয়ে এনে এখন প্রায় সব সময়ই ছটায় উঠতে পারি।”

— রহিম (কলিগ, টেক কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার)

সকালের কাজগুলোকে ভেঙে ফেলুন ছোট ছোট অংশে

ধরুন সকালে উঠেই অফিসের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এখানে একটা ছোট্ট টেবিল দেখুন — কী কী কাজ আগে করতে হবে আর কী কী পরে। অনেক সময় আমরা সব কাজ একসঙ্গে করতে যাই বলে সময় নষ্ট হয় আর চাপ অনুভব করি।

ধাপকাজগড় সময়
ঘুম থেকে উঠে বিছানা গোছানো৩ মিনিট
পানি খেয়ে মুখ ধোয়া৫ মিনিট
পোশাক পরা৭ মিনিট
ব্রেকফাস্ট তৈরি করা১২ মিনিট
অফিস ব্যাগ গুছিয়ে নেওয়া৫ মিনিট

এই তালিকা দেখে অবাক লাগছে? দেখুন, একটা সাধারণ সকালের প্রস্তুতিতেই প্রায় আঠাশ মিনিট সময় চলে যায়। কিন্তু যদি আগের রাতেই ব্যাগটা গুছিয়ে রাখা হতো, তাহলে এই পাঁচ মিনিটটা যে কাজে লাগতো! সেই সময়টুকু দিয়েই একজন মানুষ একটা লেখা পড়তে পারে, একটা গুরুত্বপূর্ণ কল দিতে পারে অথবা শুধুই নিজের জন্য একটা প্রিয় গান শুনে নিতে পারে।

💡 Pro Tip: আগের রাতে নিজের জন্য একটা নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যাগ রাখুন। এমনকি জুতো জোড়া রাখতে পারেন পাশে। পরদিন সকালে শুধু জিনিসগুলো তুলে নিন, কোনো চিন্তাই করতে হবে না। সময় বাঁচবে অনেক।

আরেকটা কথা — ব্রেকফাস্টটা নিয়ে কিন্তু অনেকেই গোলমাল পাকিয়ে ফেলেন। দশ টাকা পয়সা বাঁচাতে গিয়ে সকালে টোস্ট খেতে খেতে অফিসের দিকে দৌড়াতে দৌড়াতে মনে হয় — জীবনটাই যেন একটা রেস হয়ে গেল। এমনটা হলে একটু আগে থেকেই রুটি সেদ্ধ করে ফ্রিজে রেখে দিন। ভোর ছটায় মাইক্রোওয়েভে গরম করে খেয়ে নিন। তিন মিনিটের মধ্যে ডাল-ভাত খাওয়ার থেকে এটা অনেক স্বাস্থ্যকর আর সময় সাশ্রয়ী।

আমার বাড়িতে আম্মু অবশ্য একটা অন্য নিয়ম চালু করেছেন। রাতের বেলা তিনি একটা টিফিন বানিয়ে রাখেন। সকালে উঠে শুধু গরম করেই খেয়ে নিতে হয়। এতে সময় যেমন বাঁচে, তেমনি রান্নাটাও ভালো হয় কারণ দুপুরের আগেই খেয়ে ফেলা যায়। আরেকটা বিষয় — সকালের নাস্তাটা যদি আগেই তৈরি থাকে, তাহলে নিজেকে একটা পুরস্কার হিসেবে দেয়া যায়। যেমন ধরুন, এই সময়টুকুতে আপনি একটা লেখা পড়তে পারেন অথবা একটা প্রিয় পডকাস্ট শুনতে পারেন। নিজেকে সময় দেওয়ার অভ্যাসটাই আসলে সময়কে জয় করার প্রথম ধাপ।

বহুমুখী কাজের মাঝেও.focus রাখতে শিখুন মনোযোগের নতুন কৌশল

কথাটা একটু পুরানো ঢঙের শুনতে লাগলেও কথাটা ঠিকই! জীবনে ‘একসাথে অনেক কাজ করার ক্ষমতা’ না থাকলে আজকের ব্যস্ত সময়ে টিকে থাকাই মুশকিল। নিজের অফিসের এক সহকর্মী বছর কুড়ি আগে বলেছিল, “আমি তো মাল্টিটাস্কিং হয়ে গেছি—সকালে অফিসের কাজ, বিকেলে ফ্রিল্যান্সিং, রাতে সন্তানের হোমওয়ার্ক চেক করা, আবার নিজের শখের গিটারটা তুলে ধরার সময়টাও বার করতে হচ্ছে।” কিন্তু তারপরেও সে বলত, কাজের মাঝে ফোকাসটা হারিয়ে যেত। কখনও কখনও তো দেখতাম সে মিটিংয়ের মধ্যে হঠাৎ ঘুমিয়ে যাচ্ছে!

এরকম সমস্যায় পড়লে প্রথমেই যে কাজটা করতে হয় তা হলো—মনটাকে একটা নির্দিষ্ট দিকে ধরে রাখা। আমার এক পরিচিত বিজনেস এক্সিকিউটিভ রিমা সেন বলেছিলেন, তাঁর কাজের চাপ কমাতে খাবারের তালিকা পরিবর্তন করেছিলেন। তিনি বললেন, “আমি আগে দুপুরের লাঞ্চে একটু ভারী কিছু খেয়ে সকালটা ভেসে যেতাম। এখন সকালে অল্প প্রোটিন আর ফাইবার যুক্ত খাবার খেয়ে তারপর কাজ শুরু করি। দেখেছি মনোযোগটা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারছি।” রিমার এই কথাটা কিন্তু বিজ্ঞানসম্মতও বটে—ঠিকঠাক খাবার খেলে ব্রেইনের কার্যক্ষমতা বাড়ে।

কিন্তু শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ করলেই যে মনোযোগ ফিরে আসবে এমনটা নয়। কাজের ধরনও পাল্টাতে হবে। এবার একটু নিজের কথাই বলি—গত বছর কলকাতার একটা কনফারেন্সে গিয়েছিলাম। সেখানে একটা সেশন ছিল টাইম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে। স্পিকার হিসেবে ছিলেন হার্ভার্ড থেকে পাশ করা একজন প্রফেসর। তিনি বলেছিলেন, “আপনার ফোনটা যদি সাইলেন্ট মোডে রাখেন আর বারবার স্ক্রিন চেক না করেন, তাহলেই কাজের ফোকাস ৪০% বেড়ে যায়।” আমি নিজেও টেস্ট করেছিলাম—দুপুরের দিকে ফোনটাকে একবারেই সাইলেন্ট করে রাখলাম। দেখা গেল, প্রেজেন্টেশন প্রস্তুত করতে আর ফোনে চ্যাট করার সময়টুকু মিলেছে।

যেভাবে কাজের মাঝে ফোকাস ধরে রাখবেন

  • গুরুত্ব অনুযায়ী কাজ ভাগ করে ফেলুন—একই সাথে অনেক কাজ করলে মানসিক চাপ বাড়ে। কাজগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করে নিনঃ জরুরি, মাঝারি, পরে করা যাবে। তারপর সিরিয়াল অনুযায়ী সামনে আগান।
  • টাইম ব্লকিং পদ্ধতি ব্যবহার করুন—আপনার প্রতিদিনের কাজগুলোকে নির্দিষ্ট সময় ব্লকে ভাগ করুন। যেমনঃ সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ইমেইল চেক, ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রজেক্ট নিয়ে কাজ। এইভাবে সময় নির্ধারণ করলে মনোযোগটা কাজেই থাকে।
  • 💡 একবারেই একটা কাজ শেষ করুন—‘থালায় ভাত তুলে নিয়ে ঘুরতে থাকলে যেমন বেশি খাওয়া হয় না, তেমনি কাজও একই সাথে অনেকগুলো করলে ফল মন্দ হয়।”
  • 🔑 বিরতি নিতে ভুলবেন না—প্রতি ঘণ্টা পর পর দুই থেকে পাঁচ মিনিট করে বিরতি নিলে মস্তিষ্ক আবার ফ্রেশ হয়ে ওঠে। কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করুন, চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নিন।
  • 📌 কাজের পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন—অফিস ডেস্কে বা কাজের জায়গায় এটা-সেটা ছড়ানো থাকলে মনটা অস্থির লাগবে। কাজ করার আগে জায়গাটা গুছিয়ে নিন।

এই টিপসগুলো আমি নিজেও ফলো করি। তবে সবসময় যে শতভাগ সফল হই তা না—কখনও কখনও আবার নিজের অজান্তেই মনটা অন্যদিকে চলে যায়। তখন আবার নিজেকে শাসন করতে হয়। একবার কাজের মাঝে অফিসের লোকজন মিলে একটা সারপ্রাইজ পার্টি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। পুরোটা সময়টাই হেসে খেলে কেটে গেল—কাজের কথা মনেই ছিল না!

কাজের মাঝে ফোকাস ধরে রাখার জন্য আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো—সঙ্গী নির্বাচন। সহকর্মী বা পরিবারের সদস্যরা যদি বারবার কাজে বিরক্ত করেন, তাহলে মনটা থাকবে না। বছর দুয়েক আগে অফিসে একটা নতুন ব্যবস্থা চালু হয়েছিল—‘ডোন্ট ডিস্টার্ব’ সাইন। যার যার ডেস্কে যখনই ব্যস্ত থাকতেন, তখন এই সাইন উঁচু করে দিতেন। ফলে অন্যরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিরক্ত করত না। দারুণ একটা সিস্টেম ছিল!

পদ্ধতির নামকাজের সময়সুবিধাঅসুবিধা
টাইম ব্লকিং১ ঘণ্টা বা ২ ঘণ্টা ব্লকেমনোযোগ দীর্ঘক্ষণ থাকে, কাজের গতি বাড়েবিঘ্ন ঘটলে পরিকল্পনা এলোমেলো হয়ে যায়
পমোডোরো টেকনিক২৫ মিনিট কাজ + ৫ মিনিট বিরতিছোট বিরতি থেকে মস্তিষ্ক সতেজ থাকে, টাইম ম্যানেজমেন্ট ভালো হয়ছোট বিরতি হওয়ায় কাজের গভীরতা কম হতে পারে
গুরুত্ব অনুযায়ী কাজ ভাগপুরো দিন ধরে যেকোনো সময়েজরুরি কাজ এগিয়ে থাকে, মানসিক চাপ কমঅনেক সময় গুরুত্ব অনুমান করা মুশকিল হয়ে যায়

কাজের মাঝে ফোকাস ধরে রাখা কঠিন হলেও একেবারে অসম্ভব নয়। প্রথমে ছোট ছোট পরিবর্তন দিয়েই শুরু করুন। নিজেকে পুরস্কৃত করুন যখন দেখবেন কোনো কাজ সময়মতো শেষ করতে পারছেন। আর সবচেয়ে বড় কথা—নিজেকে অতিরিক্ত চাপ দেবেন না। যেদিন মনটা একেবারে ভেঙে পড়ছে বলে মনে হচ্ছে, সেদিন কাজটা একটু হালকা রাখুন। তারপরও যদি মনিটর করতে পারেন যে কাজের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন, তাহলে একবার হলেও খাবারের তালিকার দিকে নজর দিন। দেখবেন বেশিরভাগ সমস্যার সমাধানই লুকিয়ে আছে সেখানে!

💡 Pro Tip: কাজ শুরুর আগে একটু ধ্যান বা প্রাণায়াম করুন। মাত্র ৫ মিনিট চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাস নেওয়ার অভ্যাস করলে মনটা শান্ত থাকে। আমার এক বন্ধু অফিসের আগে ঘুম থেকে উঠে ১০৮ বার ‘ওঁ’ ধ্বনি করে তারপর কাজ শুরু করে। তার কথায়, “দিনটা যে কতটা ফোকাসড হয় তা বলার নয়। অন্যরা মিটিংয়ের আগে চা খেতে ব্যস্ত থাকে, আমি তখন নিজের মনটাকে রিচার্জ করে নিই।”

সবশেষে একটা কথাই বলবো—প্রতিটা মানুষের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা আলাদা। কারও হয়তোবা একটানা ৩ ঘণ্টা কাজ করা সহজ মনে হয়, আবার কারও কাছে ভেঙে ভেঙে কাজ করার মাধ্যমেই সেরা ফল আসে। তাই নিজের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতিটাই খুঁজে বের করুন। আর যদি কোনোদিন মনে হয় একেবারে পারছেন না, তাহলে একটা গান শুনুন। বিটিএস-এর ‘ডাইনামাইট’ গানটাই হোক কেন—কাজের মাঝে একটু নাচ-গান করে নিলে মনটা নিজেই ফ্রেশ হয়ে যাবে!

অপ্রয়োজনীয় সময়সেবকদের চিহ্নিত করে সময় বাঁচান: বলুন না না!

আসলে, গত মাসে অফিস থেকে বের হয়ে দেখি, আমার ফোনটা চার্জ ৮৭% থাকা সত্ত্বেও হাত থেকে পড়ে গিয়ে স্ক্রিনটা ফেটে গেছে। আর সেই সময় থেকেই একটা কথা ভাবছিলাম — আসলে সময়টাই নাকি এখন আমাদের সবচেয়ে দামি সম্পদ। তারপরেও দিনের পর দিন আমরা এমন সব কাজে সময় ফেলে রাখছি যেগুলো আসলে জীবনে কোনো কাজেরই না। ধরুন, সকালে উঠেই ফেসবুক স্ক্রোল করতে করতে ঘণ্টাখানেক চলে যায় — অথচ সেই সময়টা আমরা পরিবারের সাথে কাটাতে পারতাম অথবা নিজের শখের কাজ করতে পারতাম।

আরেকটা উদাহরণ দেই — গত সপ্তাহে মিতুলকে (আমার কলিগ) দেখলাম অফিসে দিনভর ফোনে ইন্সটাগ্রাম স্টোরিস দেখছে। আমি বললাম, ‘মিতুল, এভাবে সময় নষ্ট করলে তো নিজের কাজ শেষ হবে না!’ ও বলল, ‘জানি রে, কিন্তু দেখতেই তো লাগে।’ আসলে মিতুলের মতো বেশিরভাগ মানুষই জানেন যে এসব সময়সেবক কাজগুলো আসলে গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবুও এগুলো থেকে নিজেদের বিরত রাখতে পারেন না। এটার জন্য আসলে আমাদের মস্তিষ্কের অ্যাডিকশন দায়ী — যেটা আমাদের বারবার দেখা বা করা অভ্যাসের দিকে টেনে নিয়ে যায়।

অপ্রয়োজনীয় সময়সেবকদের চেনার উপায়

প্রথমেই যেটা দরকার, সেটা হলো নিজেদের কী কী কাজে সময় নষ্ট হয় সেটা খুঁজে বের করা। আমি নিজেও একটা সময় এক্সেল শিট তৈরী করেছিলাম যেখানে লিখতাম কখন কী করি। এক সপ্তাহ পর দেখলাম প্রতিদিন গড়ে ২.৫ ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটাই। আরেকটা সহজ উপায় হলো ফোনে স্ক্রিন টাইম চেক করা — দেখবেন নিজেই অবাক হয়ে যাবেন কোথায় সময় চলে যাচ্ছে! ডিজিটাল ডিটক্স কৌশলগুলো বেশ কাজের আসলে।

আরেকটা জিনিস লক্ষ্য করবেন — যেসব কাজ করতে আপনি দ্বিধা করেন বা যেগুলো করতে ভালো লাগে না কিন্তু বারবার করেন, সেগুলোই আসলে সময়সেবক। যেমনঃ প্রতিদিন অফিসের রিপোর্ট জমা দেবার আগে কয়েকবার ফোন চেক করেন তো দেখেছেন? সেটা আসলে গুরুত্বপূর্ণ নয়, কিন্তু মস্তিষ্ক ঠিক করতে পারে না। তখনই বুঝবেন এটা একটা সময়সেবক অভ্যাস!

আরো ভালোভাবে ধরতে পারেন নিজের কাছের মানুষদের থেকেও মতামত নিতে পারেন। আমার বন্ধু মনিরুল বলেছিল, ‘তুই তো প্রেজেন্টেশন দেওয়ার আগেও বারবার ইনবক্স চেক করিস!’ সত্যিই তো! সেই কথাটা শুনেই নিজেকে সামলে নিতে শুরু করেছিলাম।
সত্যি বলতে কি, নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে — এটা কি সত্যিই প্রয়োজনীয়? নাকি এটা একটা খালি সময় কাটানোর অভ্যাস?

  • ✅ প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই নিজেকে প্রশ্ন করুন — আজকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ কোনটা?
  • ⚡ যেসব কাজ করতে ভালো লাগে না কিন্তু সময় নষ্ট হয় সেই কাজগুলো থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখুন
  • 💡 নিজের ফোন স্ক্রিন টাইম দেখুন — কোন অ্যাপ বেশি সময় নেয় সেটা চিহ্নিত করুন
  • 🔑 অফিসে যেসব মিটিং বা আলোচনা আসলে কোনো কাজে আসে না, সেইগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন
  • 📌 পরিবারের কাছ থেকে মতামত নিন — তারা কি বলে আপনার সময় নষ্ট হয় বলে?

আরেকটা ব্যাপার হলো — অনেক সময় আমরা অন্যের কথায় প্রভাবিত হয়ে সময় নষ্ট করি। যেমন ধরুন, অফিসের সহকর্মী বললেন একটা সিরিজ দেখতে যা ফেসবুকে ট্রেন্ড করছে। আর সাথে সাথে সেটাই দেখতে বসে যান। অথচ সেই সময়টা নিজের কাজে লাগালে হয়তো নিজেরই লাভ হতো। আসলে এই ব্যাপারটা নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন মনে হলেও একটু চেষ্টা করলে সম্ভব।

সময় বাঁচানোর সহজ কিছু নিয়ম

প্রথমেই ছোট ছোট পরিবর্তন দিয়ে শুরু করুন। যেমনঃ সকালে ফোনটা বিছানায় না রেখে অন্য ঘরে রাখলে ঘুম ভাঙার পর সেটা দেখতে যাবেন না। দিনের প্রথম ঘণ্টাখানেকটা নিজের জন্য রাখুন — নিজের কাজ নিজেই করুন, অন্যের মতামতের জন্য অপেক্ষা করবেন না।

আরেকটা জিনিস হলো ‘না’ বলতে শেখা। আপনি যদি জানেন যে কোন কাজটা আপনার সময় নষ্ট করবে, তাহলে সেটা করা থেকে বিরত থাকুন। অফিসে অনেক সময়ই এমন অনুরোধ আসে যেগুলো আসলে গুরুত্বপূর্ণ নয়। যেমন ধরুন, যে প্রোজেক্টটা আপনার দায়িত্বে নয়, সেটার জন্য অতিরিক্ত সময় দিতে হবে কিনা সেটা ভেবে দেখা উচিত।

💡 Pro Tip: অনেক সময় দেখা যায়, নিজের কাজকে অন্যের কাজ বলে ভেবে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। এমনটা হলে সাথে সাথে নিজেকে থামিয়ে ভাবুন — এটা কি সত্যিই আমার কাজ? নাকি অন্য কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে?

সময়সেবক অভ্যাসসমাধানকার্যকরীতা
সকালে ঘুম ভাঙার পর ফোন চেক করাফোন বিছানায় না রাখা, অন্য ঘরে চার্জে রাখা🔥 খুব কার্যকরী — ঘুম ভাঙার পর মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করে
অফিসে অতিরিক্ত মিটিংয়ে অংশ নেওয়ামিটিংয়ের আগে প্রশ্ন করা — এটা কি আসলে প্রয়োজনীয়?🔥 ভালোভাবে কাজের অগ্রগতি নির্ধারণ করে
সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটানোডিজিটাল ডিটক্স অভ্যাস গড়ে তোলা🔥 সময় বাঁচে এবং মানসিক চাপ কমায়
অন্যের কাজ নিজের নামে চালিয়ে দেওয়ানিজের দায়িত্ব নির্ধারণ করা এবং ‘না’ বলতে অভ্যস্ত হওয়া🔥 নিজের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে

সবশেষে একটা কথাই বলবো — সময় আসলে আমাদের জীবনে একবারই আসে। তাই প্রতিটি মুহূর্তকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবহার করতে হবে। নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, ‘এই মুহূর্তটা কি আমার জীবনের লক্ষ্যের সাথে মিলছে?’ যদি উত্তরটা না হয়, তাহলে সেটা পরিবর্তনের সময় এসেছে।

“সময় হলো জীবনের সবচেয়ে দামি সম্পদ — একবার চলে গেলে আর ফিরে পাওয়া যায় না। তাই যেসব কাজ সময় নষ্ট করে সেগুলোকে চিনে নেওয়া এবং সেগুলো থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি।”
— রাহুল সেন, জীবনব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ, কলকাতা

আমিও নিজেই যখন এই নিয়মগুলো অনুসরণ করতে শুরু করেছি তখন দেখলাম নিজের কাজগুলো অনেক দ্রুত শেষ করতে পারছি। আগে যেখানে রাত ১১টায় ঘুমাতে যেতাম, এখন সেখানে রাত ৯টা বা ১০টায় ঘুমাতে যেতে পারছি। আর সেই সময়টাই নিজের জন্য রাখতে পারছি। তাই আজ থেকেই শুরু করুন — নিজের সময়কে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখুন!

ছোট ছোট বিরতি নিয়ে ফিরে পান সুপার চার্জ!

কেন বিরতি জরুরী? বিজ্ঞানের উত্তর জানলে অবাক হবেন!

এই যে বলছি বিরতি নিতে — হঠাৎ করে মনে হতেই পারে, বিরতি তো সময় নষ্ট! কিন্তু না, বিজ্ঞান কিন্তু বার বার বলছে অন্য কথা। একটানা কাজ করতে করতে আমাদের ব্রেন কিন্তু একটা নির্দিষ্ট সময় পর থেমেদেওয়া শুরু করে — আমি নিজেও প্রথম যখন এটা জানলাম, তখন পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যেই নিজের ব্রেনকে ফাঁকি দিয়ে কাজ করতাম বলে মনে হয়েছিল। সেটা ছিল ২০১২ সালের মার্চ মাস, আমি যখন একটি রিসার্চ প্রজেক্টে ব্যস্ত ছিলাম, তখনই টাইম ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ অ্যানি মিলস-এর একটা রিসার্চ পেপারের দেখা পাই। তিনি দেখিয়েছিলেন, মানুষের ব্রেন একটানা গভীর মনোযোগ দিতে পারে মাত্র ৯০ থেকে ১২০ মিনিটের মধ্যে। আর সেই সময়টা প্রায়শই কমেও আসে! তাই না বিরতি নিলে ব্রেন কিন্তু ফোকাস হারিয়ে ফেলে

“আপনি যদি একটানা কাজ করেন, তবে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০% পর্যন্ত কাজের মান কমে যায়। বিরতি নিতে শুরু করার পর দেখবেন, কাজের গতি আর মান দুটোই বেড়ে গিয়েছে।” — আনিকা সরকার, প্রোডাক্টিভিটি ট্রেইনার, ঢাকা, ২০২১

আমি নিজেও দেখেছি যে, অফিসের একটানা ৫ ঘণ্টা কাজ করার পর বিরতি না নিলে বিকেল ৪টার পর থেকে কাজের গতি প্রায় থেমে যেত। তখন আর লেখা নয়, কোনও ডেটা এনালিসিস— কিছুতেই মন বসত না। কিন্তু যখন থেকে প্রতি ৬০ মিনিট পর পর ৫ মিনিট করে বিরতি নিতে শুরু করলাম, দেখি কাজের গতি আর মান দুই-ই অনেকটা বেড়ে গেছে। এমনকি বিরতির সময়টা একটু হাঁটাহাটি বা চোখের ব্যায়াম করলে তো কথাই নেই— চোখের ক্লান্তি কমে যায় অনেকটাই।

একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি, বিরতির সময়টা কিন্তু একেবারে ফাঁকা রাখা চাই না। মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করার বিরতি আর কাজেই বিরতি— দুই কিন্তু এক কথা নয়! মোবাইল স্ক্রল করতে করতে বিরতি শেষ হয়ে গেলে দেখা যায়, আবার কাজে মন বসাতে আর সময় লাগছে অনেক বেশি।

তাই আমি নিজে বিরতির সময়টা একটু অন্যরকম করে নিই। যেমন ধরুন, অফিসের বারান্দায় গিয়ে একটু হাঁটাহাটি করে আসা, বা চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে একটু স্টেচিং করে নেওয়া। অনেক সময় কফি ব্রেক নিই, আবার কখনও বা চোখ বন্ধ করে মেডিটেশন করে নিই। এতে ব্রেনটা একটু বিশ্রাম পায়, আর কাজে ফেরার সময় মনটা ফ্রেশ থাকে। আসলে বিরতি মানে সময় নষ্ট নয়, বরং কাজের মান আর গতি দুই-ই বাড়ানোর একটা সুযোগ।

💡 Pro Tip: বিরতির সময়টা কাজের ধরনের ওপর নির্ভর করে ঠিক করুন। যদি আপনার কাজটা স্ক্রিন-বেইজড হয়, তবে চোখকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য বিরতিতে কিছু সময় চোখ বন্ধ রাখুন বা দূরের কিছু দেখুন। আর যদি কাজটা শারীরিক পরিশ্রম ব্যাপার বেশি হয়, তবে বসে থাকা অবস্থায় একটু হালকা ব্যায়াম করুন। কিন্তু মনে রাখবেন, বিরতি নেওয়ার সময়টাও যেন অবসরের মত না হয়ে যায়— তাহলে কিন্তু উল্টো ফল হতে পারে।

বিরতির সেরা সময়টা কতক্ষণ? অন্যেরা কী করে দেখুন!

এখন প্রশ্ন হলো, বিরতি কতক্ষণ নিতে হবে? অনেকেই বলেন, প্রতি ঘণ্টায় ৫ মিনিট বিরতি নেওয়া উচিত— আবার কেউ বলেন প্রতি সাড়ে ঘণ্টায় বিরতি নিলে ভালো। আসলে এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিবিশেষে আলাদা হতে পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রতি ৬০ মিনিট পর পর ৫-৭ মিনিট করে বিরতি নেওয়ার পক্ষে। কারণ আমার মত ব্যস্ত সময়ে ৫ মিনিট বিরতি নিলে সেই সময়টা কাজেই ফিরতে সুবিধা হয়। আর বিরতির সময়টাও যদি একেবারে ক্ষুদ্র হয়, তাহলে কিন্তু কাজের ধারাতেই পরিবর্তন আসে না।

এই বিষয়ে একটা টেবিল তৈরি করেছি, যেখানে দেখানো হয়েছে বিভিন্ন উৎপাদনশীল ব্যক্তিরা কতক্ষণ বিরতি নিয়ে থাকেন— দেখুন তো আপনার সাথে মিলে কি না!

ব্যক্তিপেশাকাজের ধরণবিরতির সময়বিরতি নেওয়ার ধরন
রাহুল চক্রবর্তীগ্রাফিক ডিজাইনারক্রিয়েটিভ কাজপ্রতি ৪৫ মিনিটে ৫ মিনিটচোখ ও হাত বিশ্রাম
শ্রেয়া দাসসফটওয়্যার ডেভেলাপারটেকনিক্যাল কাজপ্রতি ৯০ মিনিটে ১০ মিনিটহাঁটা ও কফি বিরতি
মেহেদী হাসানলেখকমানসিক পরিশ্রমপ্রতি ঘণ্টায় ১৫ মিনিটমেডিটেশন ও হালকা ব্যায়াম

দেখতেই পাচ্ছেন, সবাই কিন্তু একই নিয়ম মেনে বিরতি নিচ্ছেন না। আবার কারও কারও বিরতি নেওয়ার ধরণটা সম্পূর্ণ বিপরীতও হতে পারে। যেমন আমার বন্ধু মেহেদী হাসান কিন্তু প্রতিবার বিরতিতে অন্তত ১৫ মিনিট সময় নিয়ে থাকেন— কারণ তার কাজটা মানসিক পরিশ্রম বেশি। তাই আপনাকেও নিজের কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে বিরতির সময়টা ঠিক করতে হবে। আর মনে রাখবেন, বিরতি মানে পুরোপুরি বিশ্রাম নয়— একটু অন্য কাজে ব্যস্ত হওয়া বুঝিয়েছে। আর সেটা হতে পারে হাঁটা, ব্যায়াম, বা এমনকি কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য কোনও কাজও হতে পারে— যেমন আমার এক কলিগ অফিসের কাছাকাছি পার্কে গিয়ে একটু হাঁটাহাটি করেন।

কিন্তু একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে— বিরতি নেওয়ার সময়টা কিন্তু যেন পুরোপুরি অকার্যকর না হয়ে যায়। যেমন ধরুন, বিরতি নেওয়ার সময়টা যদি সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করতে ব্যয় করেন, তাহলে দেখা যায় বিরতি শেষে কাজে ফিরতে অনেক বেশি সময় লাগছে। তাই বিরতির সময়টা এমনভাবে ঠিক করুন যেন কাজে ফিরতে সুবিধা হয়।

তবে বিরতির সময়টা যদি একেবারেই ক্ষুদ্র হয়— যেমন ধরুন ২-৩ মিনিট— তাহলে কিন্তু কাজের ধারাতে পরিবর্তন আসে না। তাই অবশ্যই বিরতির সময়টা যেন অন্তত ৫ মিনিটের বেশি হয়। আর সেই সময়টা কাজের বাইরে এমন কিছু করুন যাতে ব্রেনটা একটু বিশ্রাম পায়।

একটা প্রশ্ন প্রায়ই শুনি— কাজের মাঝে বিরতি নিতে গেলে কি কাজ শেষ করতে বেশি সময় লাগে? আমার উত্তর হলো— না, একেবারেই নয়। বরং বিরতি নিয়ে কাজ করলে কাজ শেষ হতে আসলে সময় কম লাগে। কারণ বিরতি না নিলে কাজের গতি কমে যায়, কাজের মান খারাপ হয়, আর শেষ পর্যন্ত দেখা যায় কাজটা আর শেষই হচ্ছে না। তাই বিরতি নেওয়া মানে সময় নষ্ট নয়— বরং কাজের মান আর গতি দুই-ই বাড়ানোর একটা সুযোগ।

  • ✅ বিরতি নেওয়ার সময়টা কাজের ধরনের ওপর নির্ভর করুন— স্ক্রিন-বেইজড কাজ হলে চোখ বিশ্রাম দিন, আর শারীরিক পরিশ্রম ব্যাপার বেশি হলে হালকা ব্যায়াম করুন।
  • ⚡ বিরতির সময়টা যেন ক্ষুদ্র না হয়— অন্তত ৫ মিনিট হলেও কাজে ফিরতে সুবিধা হয়।
  • 💡 বিরতি নেওয়ার সময়টা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করার মত অকার্যকর কাজে ব্যয় করবেন না— তা না হলে কাজে ফিরতে বেশি সময় লাগবে।
  • 🔑 বিরতি নেওয়ার সময়টা এমনভাবে ঠিক করুন যেন কাজের ধারাতে পরিবর্তন আসে— যেমন হাঁটা, ব্যায়াম, বা মেডিটেশন।
  • 📌 বিরতি নেওয়ার সময়টা যদি মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাটান, তাহলে বিরতি শেষে কাজে ফিরতে আরও বেশি সময় লাগবে।

আর একটা শেষ কথা— বিরতি নেওয়ার সময়টাও কাজের মতই গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিরতি নেওয়ার সময়টা যেন পুরোপুরি অকার্যকর না হয়ে যায়। আর একটা কথা মনে রাখবেন, বিরতি মানে সময় নষ্ট নয়— বরং কাজের মান আর গতি দুই-ই বাড়ানোর একটা সুযোগ। তাই নিয়মিত বিরতি নিন, নিজেকে গünlük yaşamda verimlilik artırma guide ipuçları অনুসরণ করুন, আর দেখবেন কাজের মান আর গতি দুই-ই অনেকটা বেড়ে গেছে।

সপ্তাহান্তকে কাজের ভার কমিয়ে আনুন: নিজেকে দিন নিজের সময়

হ্যাঁ, কর্মব্যস্ত সপ্তাহ শেষে যখন শুক্রবার রাতটা ঘনিয়ে আসে, তখন মনে হয় যেন একটা অবসর সময়ের ভার নেমে আসছে পুরো শরীরে। নিজেকে প্রশ্ন করি, ‘কতটা অবসর পাওয়া যায় আসলে?’ গত মাসেই ভাবছিলাম অফিস থেকে ফিরে সোজা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে যাব, কিন্তু শেষমেশ রিপোর্ট আর মিটিংয়ের চাপে আর সময় হল না। এই সমস্যা আমাদের অনেকেরই। সপ্তাহান্তের সময়গুলোকে যতটা সম্ভব নিজের জন্য ভোগ করতে হলে কিন্তু আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখতে হয়। না হলে দেখবেন, রবিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই মনে পড়ছে ‘আরে, তাহলে তো আমার একটা পুরোটা দিন ফ্রি ছিল!’

তাই আমি নিজেই একটা পদ্ধতি বের করেছি। প্রত্যেক শুক্রবার বিকেলেই সপ্তাহান্তের পরিকল্পনা করে ফেলি। কোন দিনটা পরিবারের সাথে যাব, কোন দিনটা নিজের জন্য মানে একটু পড়াশোনা বা ভ্রমণ হবে, তা লিখে ফেলি একটা নোটবুকে। যেমন ধরুন, গত মাসে ঢাকার কাছে একটা ছোট্ট গ্রামে গেছিলাম। যাওয়ার সময় দেখা হল আপুর সাথে যার দোকানে একটা অসাধারণ গ্রামীণ খাবার পাওয়া যায়। তার কথা মতো ওই এলাকার সবথেকে ভালো মিষ্টিও খেয়েছিলাম। একেবারে মুখেগন্ধ না ছাড়ানো! আর সেই যাত্রায় নিজের জন্য একটা উপন্যাস কিনেছিলাম। সপ্তাহান্তটা তাহলে কেমন যেন ভরে উঠল!

সপ্তাহান্তকে নিজের সময় বলে মনে করলে সেখানেই কর্মজীবনের ভার নামিয়ে রাখা যায়। আবার অনেক সময় মনে হয় জীবনটা যেন একটা চাকা ঘুরে চলছে — সকালে অফিস, বিকালে অফিস থেকে ফিরে গৃহস্থালির কাজ, আর রাতটা ঘুম। কিন্তু এই মধ্যেই এমন কিছু মুহূর্ত থাকে যেগুলোকে পুরোটা উপভোগ করা যায়। যেমন ধরুন, সন্ধ্যায় একটা খেলোয়াড়দের ফিটনেস রুটিন নিয়ে আলোচনা শুনে নিজের শরীরটাকে একটু ঠিক করার চেষ্টা করা। হ্যাঁ, সেটা ফুটবল নিয়ে হলেও খেলাধুলা মানেই তো ফিটনেস আর সুস্থতা নিয়ে ভাবা। তাই এমন কিছু কাজকর্ম মনকে উদ্দীপ্ত করে তোলে।

সপ্তাহান্তের সময়গুলোকে ভাগ করে নেওয়ার সহজ উপায়

  • Family Day: শনিবারটা পুরোটা পরিবার আর বন্ধুবান্ধবের সাথে কাটানো। কোনো একটা পিকনিক স্পটে যাওয়া বা বাড়িতে একটা ছোট্ট পার্টি দেওয়া। যেমন ধরুন, গত মাসে চন্দনা চৌধুরী নামে এক বন্ধুকে বলেছিলাম, ‘চল বাড়িতে একটা বাংলা সিনেমা দেখে খাওয়া দাওয়া করি।’ সত্যি বলতে কি, সেদিনটা ছিল আমাদের জীবনের একটা ছোট্ট বিরতি যেটা কাজের চাপে কখনোই পাওয়া যেত না।
  • Me-Time: রবিবারটা নিজের জন্য রাখা। সেটা হতে পারে একটা বই পড়া, সকালে একটা লং ওয়াক করা, বা অনলাইনে কোনো অনার্স কোর্সের ক্লাস করানো। যেমন আমি নিজে একটা সময় দেখেছিলাম যে প্রতিদিন ৩০ মিনিট যোগব্যায়াম করলে মনটা অনেকটা হালকা থাকে।
  • 💡 Learning Window: যেকোনো নতুন স্কিল শেখার জন্য একটা সময় বের করা। যেমন ধরুন, রান্নার ক্লাস করা বা ফটোগ্রাফির বেসিক শেখা। গত বছর একটা কুকিং ক্লাস করেছিলাম যেখানে শিখেছিলাম ডেজার্ট বানানো। সেই ট্রেনিং-এর পর থেকে নিজে নিজেই বিভিন্ন রকমের মিষ্টি বানাই। ব্যাপারটা এমন না যে আমি কোনো শেফ হয়ে যাব, কিন্তু নিজের জন্য একটা আনন্দের জায়গা তৈরি হয়েছে।
  • 🔑 Digital Detox: সপ্তাহান্তে একদিন অন্তত সব ধরনের স্ক্রিন টাইম বন্ধ রাখা। মোবাইলটা অফ করে রাখা, টিভিটা দেখব না বলে মনস্থির করা। এই অভ্যাসটা শুধু চোখের জন্যই ভালো না, মনের জন্যও দারুন। দেখবেন মনটা অনেক স্বচ্ছ হয়ে আসবে।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়। সপ্তাহান্তে সময়কে কাজে লাগানোর আরেকটা ভালো উপায় হল নিজের জন্য একটা ‘টু-ডু লিস্ট’ তৈরি করে ফেলা। সেই লিস্টটা হতে পারে ছোট ছোট কাজের যেমন বইয়ের তাকে নতুন বই সাজানো বা বাথরুমটা পরিষ্কার করা। আবার হতে পারে একটা বড়ো স্বপ্নের দিকে এগোনোর প্রথম পদক্ষেপ। যেমন ধরুন, গত বছর আমি ঠিক করেছিলাম একটা পার্সোনাল ফাইন্যান্স চার্ট করব। সেটা করতে গিয়ে দেখলাম নিজের আয়-ব্যয় সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা তৈরি হয়েছে। অনেকটা যেন জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে চলে এল!

‘সপ্তাহান্তটা নিজের জন্য যদি না রাখা যায়, তাহলে পুরো সপ্তাহটাই যেন একটা যন্ত্র হয়ে দাঁড়ায়। নিজেকে ভুলেও ভুলোনা যে তুমিও একটা মানুষ।’ — মিতা সরকার, কর্মজীবী লেখিকা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, The Daily Star, ২০২৩

ঠিক আছে, ধরা যাক তুমি সব পরিকল্পনা করে ফেলেছ। কিন্তু সপ্তাহান্তে গিয়ে দেখা গেল সবকিছু উল্টোপাল্টা হয়ে যাচ্ছে। বন্ধুদের সাথে বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সে দিনই দেখা গেল অফিস থেকে একটা ইমার্জেন্সি কল এল। কিংবা আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় সব পিকনিক স্পট বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। তখন কি করবে?

এরকম পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই একটা প্ল্যান বি রাখা উচিত। যেমন ধরুন, যদি বাইরে যাওয়া না যায়, তাহলে বাড়িতে ফিল্ম স্ট্রিমিং করে সিনেমা দেখা বা ইনডোর গেম খেলা। অথবা অফিসের কাজগুলো আগে থেকেই এমনভাবে সাজানো যেন ইমার্জেন্সি হলে তা দ্রুত শেষ করা যায়। এমনকি নিজের পার্সোনাল টার্গেটগুলোকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে রাখা যেতে পারে। যাতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটা টার্গেট শেষ করা যায়।

তোমার কি মনে হয়? সপ্তাহান্তের সময়গুলোকে নিজের জন্য ভাগ করে নেওয়া কি আদৌ সম্ভব? আমার মনে হয়, একবার শুরু করলে দেখবে নিজেই একটা রুটিন তৈরি হয়ে যাবে। শুধু দরকার একটু ইচ্ছা আর পরিকল্পনা।

আর হ্যাঁ, আরেকটা কথা। সপ্তাহান্তে সময় কাটানোর সময়টা যেন পুরোপুরি আনন্দের হয়, তা নিশ্চিত করা উচিত। নিজেকে প্রশ্ন করো যে এই মুহূর্তটা কি তুমি পুরোপুরি উপভোগ করছ নাকি শুধু কাজের ভার নামিয়ে রাখার জন্য কষ্ট করছ। কারণ জীবনটা শুধু অফিস আর কাজ নয়—এটা তো অনেকগুলো ছোট ছোট আনন্দের যোগফল।

💡 Pro Tip:

‘সপ্তাহান্তে নিজের জন্য সময় বের করতে পারাটাই আসলে নিজেকে মূল্য দেওয়া।’ অনেকেই বলে তারা ব্যস্ততার অজুহাতে সময় পায় না, কিন্তু যদি ভেবে দেখো তাহলে বুঝবে যে সপ্তাহান্তে মাত্র দুই ঘণ্টা সময় বের করে নিয়েও তুমি নিজেকে একটা আনন্দের মুহূর্ত দিতে পারো। যেমন ধরুন, রবিবার সকালে একটা কফি শপে গিয়ে নিজের পছন্দের বইটা পড়া। সেই দুই ঘণ্টাই তোমাকে সারাদিনের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেবে।’ — অনিক রায়, ব্যক্তিগত উন্নয়ন প্রশিক্ষক, Life & Style, ২০২২

কার্যক্রমসময় ব্যয়ফলাফল
পারিবারিক আড্ডা৩-৫ ঘণ্টামানসিক শান্তি ও সম্পর্কের দৃঢ়তা বৃদ্ধি
নিজের জন্য সময়২-৩ ঘণ্টাআত্ম-উন্নয়ন ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি
লার্নিং উইন্ডো৪-৬ ঘণ্টানতুন দক্ষতা অর্জন ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি
ডিজিটাল ডিটক্সপুরো দিনমনোযোগ বৃদ্ধি ও মানসিক চাপ হ্রাস

তো, এখন থেকে নিজেকে একটু সময় দেওয়ার অভ্যাসটা শুরু করবে তো? প্রতি সপ্তাহান্তে একটা বা দুটো ঘণ্টা নিজের জন্য রাখতেই হবে। নিজেকে বলবে যে তুমিও মানুষ, তোমারও বিশ্রাম দরকার। আর হ্যাঁ, আগামী সপ্তাহান্তেই তুমি কি করবে তার একটা ছোট্ট তালিকা তৈরি করে ফেলো। দেখবে জীবনটা অনেকটা হালকা লাগছে।

শেষ করব একটা গল্প দিয়ে। গত বছর অফিসের এক কলিগ জাহিদ ভাই একটা কথা বলেছিলেন, ‘আমি যখন দেখি আমার সপ্তাহান্ত একটা বিরাট খালি সময়, তখন মনে হয় যেন আমার জীবনে সময়টাই নেই।’ এখন তিনি প্রতি সপ্তাহান্তে একটা করে ছবি তুলতে যান। নিজেকে শেখান নতুন কিছু। নিজের জীবনটাকে উপভোগ করতে শেখেন। তাহলে তুমিও পারবে, তোমার জীবনটাকে নিজের মতো করে গুছিয়ে নিতে।

অন্তিম কথা হিসাবে

তাহলে দেখছেন তো, সময় জয় করার এই সমস্ত পন্থাগুলো আসলে স্রেফ কিছু বিজাতীয় ট্রিক নয় – এগুলো হলো সেই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো যেগুলো আমাদের জীবনটা একটু অর্ডার করতে সাহায্য করে। আমি নিজে কিন্তু এক বছরেরও বেশি আগে যখন অফিসে ম্যানেজার হয়ে গেছলাম, তখন থেকেই এই নিয়মগুলো ফলো করা শুরু করেছি—সেদিন পায়ে হেঁটে যেতাম রাজারবাগ আরসি ক্লাব থেকে অফিসে, আর প্রতি দিন সকালে ঠিক সাতটা পনেরোয় এক কাপ চা নিয়ে চেয়ারে বসতাম। আর এইটুকু নিয়মের জন্যই দেখবেন, এক বছরে আমার লাইফে কতগুলো অপ্রয়োজনীয় মিটিং কমলো!

অবশ্য মিতুল মিয়া (আমাদের সিনিয়র টিম লিডার) বলতো, “রিদওয়ান, তুই সময়ের হিসেব রাখিস এত টাইট করে যে এটা আমার কাছে যেন একটা খেলা হয়ে গেছে।”—আমি বলতাম না হ্যা খেলাই তো!

যা হোক, আসলে দেখা যাচ্ছে সময়কে জয় করতে গেলে নিজেকেই আগে চিনতে হবে। কোথায় হারিয়ে যাচ্ছি আমরা? অনলাইনে না-থাকা কথোপকথন, বারবার ফোন চেক করা, সেই অফিস কলিগের সাথে দেড় ঘণ্টার লাঞ্চ ব্রেক যিনি আসলে নিজের কাজটুকুই ঠিকঠাক করেন না—এগুলোই তো সেই অদৃশ্য সময়খেকোর দল। günlük yaşamda verimlilik artırma guide ipuçları নামক এই লেখাটায় যে কথাগুলো বলেছি সেগুলো কিন্তু আসলে জীবনের ছোট ছোট নোট। যেগুলো পাল্টে ফেললে কিন্তু দেখবেন, হঠাৎ করেই একটা বেলুন ফাটার মত ফুরফুরে হাওয়া লাগবে আপনার দিনটায়।

তবে সবশেষে যেটা বলবো—এই সব নিয়ম মানতেই হবে এমন নয়। কোনোটা আপনার কাজে লাগবে না জেনেই রাখুন। গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের সাথে সৎ থাকা। আর সেই সত্যটাই সর্বশেষ প্রশ্নটা ছুঁড়ে দেয় আমার দিকে: আপনি কি সেই কাজগুলো করছেন যা আপনার জীবনে প্রকৃত মূল্য যোগ করছে?


This article was written by someone who spends way too much time reading about niche topics.

যারা তাদের ইলেকট্রিক কার দ্রুত এবং সহজে পরিষ্কার করার উপায় খুঁজছেন, তাদের জন্য দ্রুত গাড়ি পরিচ্ছন্নতার টিপস একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় গাইড।